ডিএ আন্দোলন নিয়ে কয়েকটা জরুরি কথা / The DA Files

ডিএ বা ডিয়ারনেস অ্যালাওয়েন্স যাকে বাংলায় বলে মহার্ঘ্যভাতা তা নিয়ে লড়াই বহুদিনের। সিপিআই(এম) আমলেও সরকারি কর্মচারীদের ডিএ বকেয়া থাকতো। তা নিয়ে সরকারি অফিসগুলোর অলিন্দে কর্মচারীরা আন্দোলনও করতেন। তাতে বাম বিরোধী নেতানেত্রীরা অংশও নিতেন। বেশ করতেন। কিন্তু যে ‘মানবিক’ মমতাদেবী বিরোধীনেত্রী থাকাকালীন ‘যে সরকার ডিএ দিতে পারে না, তার এক মুহুর্ত ক্ষমতায় থাকা উচিৎ নয়’ বলে হুঙ্কার ছাড়তেন সেই তিনিই ক্ষমতায় বসেই তাঁর সেই আগের অবস্থান থেকে ১৮০ ডিগ্রী ঘুরে জানিয়ে দিলেন তাঁর সরকার কর্মচারীদের ‘ডিএ’ দিতে বাধ্য নয়।  সোজাকথায় সরকার চাইলে ডিএ দেবে, না চাইলে দেবে না। আরও স্পষ্ট করে বললে তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন ‘ডিএ’ সরকারি কর্মচারীদের প্রাপ্য বেতনের মূল অংশ নয়। কাজেই ডিএ চেয়ে অযথা ‘ঘেউঘেউ’ করে লাভ নেই। এমন আজগুবি স্বৈরাচারী দাবি ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট সরকারের আমলে কোনদিনও শোনা যায় নি।         

স্বভাবতই ‘ডিএ’র জন্য আইনি লড়াই শুরু হলো। সেই লড়াইতে প্রথম থেকে নেতৃত্ব দিলেন সিপিআই(এম) নেতা বিশিষ্ট আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। ট্রাইব্যুনাল, হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট। একের পর এক বেঞ্চ। সব টপকে ‘ডিএ’র স্বপক্ষে জয় ছিনিয়ে আনলেন বিকাশরঞ্জন অ্যান্ড টিম। আর সেই আইনি লড়াইয়ে ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহৃত হলো সিপিআই(এম) নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট সরকারের আনা রোপা ২০০৯ রুল।
কিন্তু মাননীয়া তো স্বৈরাচারী। এসব আইন আদালতের ধার ধারেন না উনি। সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়ে দেওয়ার পরেও জেদ ধরে বসেছিলেন ‘ডিএ’ উনি দেবেন না।

তাহলে উপায়?

২০১১ র পর সিপিআই(এম) ধর্মঘট ডাকলে যে সরকারি কর্মচারীরা মাননীয়ার ইশারায় ল্যাজ নাড়তে নাড়তে আগের দিন রাতে অফিসে থেকে পিকনিক করে পরের দিন হাজিরা খাতায় সই করে ধর্মঘট ব্যর্থ করে দুপুরে অফিস ছাড়তেন সেই তারাই নিজেদের ল্যাজে পা পড়তেই সিপিআই(এম)পন্থী কর্মচারী সংগঠনের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে শেষে ধর্মঘট ডাকলেন। রাজ্য জুড়ে ব্যপক সাড়া পড়লো।

মাননীয়া প্রমাদ গুনলেন। সামনেই ভোট। তাই শেষমেশ বাধ্য হলেন বকেয়া ‘ডিএ’ দেওয়ার ঘোষণা করতে।

এবার বোঝা গেল কি স্বৈরাচারী দক্ষিণপন্থীরা কেন ধর্মঘটের বিরোধিতা করে! আমাদের বুঝতে হবে ধর্মঘট গণতন্ত্রের একটা অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। নির্দিষ্ট সময় অন্তর সংবিধান মেনে ভোট নিশ্চিত করে যাতে কোন পলিটিক্যাল হেজিমনি মানুষের ঘাড়ে চেপে না বসে! আর দুই ভোটের মাঝের অন্তরবর্তী সময়টাতে শাসক বিরোধী ধর্মঘট-আন্দোলনগুলো শাসককে বাধ্য করে আয়নার সামনে দাঁড়াতে।

ঠিক যেমন এক্ষেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দাঁড়াতে হলো। হার মানতে হলো। সারমেয়কূলের ‘ঘেউঘেউ’ এর সামনে বাজার করতে বেড়োন হাতিকে নতমস্তকে দাঁড়াতে হলো। 

কাজেই ধর্মঘটকে গাল দেওয়ার আগে ভাবুন ! ভাবা প্র্যাক্টিস করুন।
 
পুনশ্চঃ যুবসাথীর জন্য কোন কোন বিরোধী নেতানেত্রী লাইন দিয়ে ফর্ম ফিল-আপ করছেন তার ছবি ও ফুটেজ নিয়ে লাফালাফি করা জেলখাটা মুখপাত্র ও তার  বীরপুঙ্গব অনুগতদের জিজ্ঞেস করতে চাই, তৃণমূলপন্থী সরকারী কর্মচারী সংগঠনের সাথে যুক্ত সরকারী কর্মচারীরা কি বকেয়া ‘ডিএ’ ছেড়ে দিচ্ছে?